টাইম ট্রাভেল কি সম্ভব !

তত্ত্বীয় পদার্থ বিজ্ঞানের সবচেয়ে বেশি আলোচ্য বিষয়ের একটি টাইম ট্রাভেল (সময় ভ্রমণ) ।টাইম ট্রাভেল তত্ত্বীয় পদার্থ বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আগে এটি সায়েন্স ফিকশান , মুভি এবং বিভিন্ন উপন্যাসের বিষয় ছিল। কিন্তু এরকম একটি বিষয় কি করে তত্ত্বীয় পদার্থ বিজ্ঞানের  অন্তর্ভুক্ত হলো । এবং সত্যি কি টাইম ট্রাভেল সম্ভব ! কি ভাবে ট্রাইম ট্রাভেল সম্ভব এবং ট্রাইম ট্রাভেল কেন সম্ভব নয় এসকল প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করবো আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে । তো চলুন শুরু করা যাক ।

টাইম ট্রাভেল কি সম্ভব
টাইম ট্রাভেল কি সম্ভব
আর্টিকেল শেষে আপনি জানতে পারবেন ।

টাইম ট্রাভেল কি ?

টাইম ট্রাভেল মানে হলো বর্তমান থেকে অতীত বা ভবিষ্যৎ ভ্রমণ । এক কথায় সময় ভ্রমণ। টাইম ট্রাভেল এখনো তত্ত্বীয় পদার্থের অন্তর্ভূক্ত । এখনো এর প্রয়োগিক দিক পরীক্ষা করে প্রমাণ করা যায় নি । 

আমরা সকলেই দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা এই তিন মাত্রার সাথে পরিচিত । তবে নূন্যতম চার মাত্রার একটি হচ্ছে সময়ের মাত্রা । প্রথম তিনটি মাত্রা বরাবর স্থান পরিবর্তন করা সম্ভব হলেও  সময় বরাবর স্থান পরিবর্তন করা এখনো সম্ভব হয়নি। টাইম ট্রাভেল সম্পর্কে মানুষের অশেষ আগ্রহের কারণে এ নিয়ে তৈরি হয়েছে অসংখ্য গুজব। 

কীভাবে টাইম ট্রাভেল তত্ত্বীয় পদার্থ বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত হলো ?

প্রাচীন মহাকাব্য বা লোকগল্পে সময় ভ্রমণের অনেক কাহিনী প্রচলিত আছে । খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতকে রচিত মহাভারতে রাজা কাকুদমির কাহিনী, খ্রিস্টীয় অষ্টম শতাব্দীর জাপানের লোককথার এক চরিত্র উরাশিমা তারোর সময় ভ্রমণের গল্প,  ১৭৭০ সালে ফরাসী লেখক ল্যুই সেবাস্তিয়ান মারসিয়ারের ‘’L’An 2440, rêve s’il en fut jamais’’ নামক বিখ্যাত উপন্যাস, ১৮১৯ সালে ওয়াশিংটন আর্ভিংয়ের বিখ্যাত ‘রিপ ভ্যান উইংক্যাল’ সহ বিভিন্ন সময়ে রচিত বিভিন্ন গল্প, উপন্যাসে আমরা টাইম ট্রাভেলের সম্পর্কে ধারণা পেয়ে থাকি । 

আরো পড়তে পারেন

কিন্তু  টাইম ট্রাভেল আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞানের অন্তর্ভূক্ত হলো কি করে ? এ প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে অবশ্য আমাদেরকে ১৬৮৭ সালে টাইম ট্রাভেল করে আসতে হবে । ১৬৮৭ সালে স্যার আইজাক নিউটন তার বিখ্যাত মহাকর্ষ সূত্র প্রকাশ করেন । এ সূত্রে বলা হয়েছে 

"এই মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে এবং এই আকর্ষণ বলের মান বস্তু কণাদ্বয়ের ভরের গুণ ফলের সমানুপাতিক, এদের মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যাস্তানুপাতিক এবং এই বল বস্তুদ্বয়ের কেন্দ্র সংযোজক সরলরেখা বরাবর ক্রিয়া করে।"

১৮৬১ সালে প্রকাশিত ম্যাক্সওয়েলের ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিসম সমীকরন এবং ১৮৭৭ সালে মিকেলসন-মর্লির বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা এই দুটি ঘটনা এবং তৎকালীন আরো কিছু থিউরি নিয়ে চিন্তা করতে গিয়ে আলবার্ট আইনস্টাইন ১৯০৫ সালে তার বিখ্যাত বিশেষ আপেক্ষিকতা থিউরি প্রকাশ করেন । যার ফলে আমরা পাই তার সেই বিখ্যাত সমীকরণ ।

E = mc2 (শক্তির পরিমাণ = বস্তুর ভর × আলোর বেগের বর্গ)


টাইম ট্রাভেল কি সম্ভব
E = mc2

আপেক্ষিকতা থিউরি মতে অতিমাত্রার ভর বিশিষ্ট বস্তুর কারণে তার নিকটস্থ স্থান কাল বক্র হয়ে যায় । এ সূত্রের মাধ্যমে আইনস্টাইনই প্রথম প্রমাণ করেন যে ভর এবং শক্তি দুটি আলাদা নয় । বরং বিশেষ পরিস্থিতিতে ভর শক্তিতে এবং শক্তি ভরে রূপান্তর হতে পারে । আইনস্টইনের মতে সব কিছই আসলে শক্তি । 

পূর্বে স্থান এবং কালকে পরম ধরে নেওয়া হলেও আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতাবাদ তত্ত্বেই প্রথম স্থান এবং কালকে আপেক্ষিক হিসেবে ধরা হয় । নিউটনের মহাকর্ষ নীতি অনুযায়ী মহাকর্ষ একটি বল কিন্তু আইনস্টাইন তার বিশেষ আপেক্ষিকতা থিউরিতে বলেছেন যে মহাকর্ষ কোন বল নয় বরং এটি হলো বস্তুর ভরের কারণে সৃষ্ট একটা ঘটনা যা স্থান এবং কালকে প্রভাবিত করে । 


টাইম ট্রাভেল কি সম্ভব

আপেক্ষিকতা থিউরি মতে অতিমাত্রার ভর বিশিষ্ট বস্তুর কারণে তার নিকটস্থ স্থান কাল বক্র হয়ে যায় । আইনস্টাইনের থিউরি অনুযায়ী নক্ষত্রের মত বা তার চেয়েও বড় কোন বৃহৎ ভর বিশিষ্ট বস্তুর মহাকর্ষীয় ক্ষেত্র সময়কে ধীর করে দিতে পারে । 

আপেক্ষিকতা অনুসারে কোনো বস্তু যখন আলোর গতিতে চলবে তখন তা হয়ে যাবে ভরশূন্য আর যদি আলোর গতিতে চলে যায় তবে সময় স্থির হবে, মানে টাইম ট্রাভেল হবে । তার মানে  আইনস্টাইনের থিউরি অনুযায়ী তাত্ত্বিকভাবে সময় ভ্রমণ সম্ভব। আর এভাবেই মানুষের কাল্পনিক একটি বিষয় তত্ত্বীয় পদার্থ বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল ।

টাইম ট্রাভেল কি সম্ভব !

আমার আগেই বলেছি আইনস্টাইনের থিউরি অনুযায়ী তাত্ত্বিকভাবে সময় ভ্রমণ সম্ভব।

আইনস্টাইনের মতে স্থান কাল আপেক্ষিক (অর্থ্যাৎ অবস্থাভেদে এগুলো পরিবর্তন হয় ) তবে আলোর বেগ ধ্রবক (অর্থ্যাৎ অবস্থাভেদে এটি পরিবর্তন হয় না ) । বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য একটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে । 

মনে করুণ দুটি বাস পাশাপাশি চলছে A বাসের গতি ঘন্টায় ৫০ কি.মি. এবং B বাসের গতি ঘন্টায় ২০ কি.মি. তাহলে A বাসের গতি B বাসের  তুলনায় ঘন্টায় ৩০ কি.মি. ।

এখন মনে করুণ আপনি গাড়িতে নয় একটি রকেটের মধ্যে বসে আছেন যার গতি আলোর গতির ৫০% (বাস্তবে সম্ভব নয়) । আপনার রকেটের পাশে রয়েছে একটি আলোক রশ্মি । এবার যদি রকেট থেকে পাশের আলোক রশ্মির বেগ মাপা হয় তাহলে কিন্তু আলোর বেগ গাড়ির উদাহরণের মতো কম হবে না। অর্থ্যাৎ অলোর বেগ স্থির অবস্থান থেকে মাপলে যা গতিশীল অবস্থা থেকে মাপলে তাই হবে । অর্থ্যাৎ আলোর বেগ ধ্রবক ।

এবার আসুন সময় এবং স্থানের আপেক্ষিতার বিষয়টি স্পষ্ট করা যাক 

মনে করুন হাসান হোসেন দুই জমজ ভাই। দুজনের বয়স ২৫ । তো হাসান নাসার একজন নভোচারি । ঠিক হলো যে হাসান স্পেসশিপে চড়ে ১২ আলোকবর্ষ দূরে এক গ্রহে যাবে । স্পেসশিপের গতি আলোর গতির ৬০% । এই গতিতে হাসানের ১২ আলোকবর্ষ দূর গ্রহে যেতে সময় লাগবে ২০ বছর আবার ফিরে আসতে সময় লাগবে ২০ বছর ।

আরো পড়তে পারেন

অর্থ্যাৎ ৪০ বছর দুই ভাইয়ের দেখা হবে না । তো হাসান যখন ফিরে আসবে তখন তার বয়স ২৫+৪০=৬০ বছর হলেও সময় সম্প্রসারণ সূত্র অনুযায়ী  হোসেনের বয়স হবে ৭৫ বছর । অর্থ্যাৎ হাসান ১৫ বছর সময় ভ্রমণ করে এসেছে । 

বিশেষ আপেক্ষিকতা থিউরি অনুযায়ী দুজন পর্যবেক্ষকের একজন স্থির এবং অপরজন গতিশীল হলে, গতিশীল পর্যবেক্ষকের সময় স্থির পর্যবেক্ষকের তুলনাতে ধীরে চলবে। অর্থাৎ গতিশীল পর্যবেক্ষক স্থির পর্যবেক্ষকের তুলনায় তাড়াতাড়ি ভবিষ্যতের দিকে রওনা দিবে ।

আশা করি উপরের উদাহরণ হতে ইতোমধ্যে বুঝে ফেলেছেন গাণিতিক ভাবে টাইম ট্রাভেল সম্ভব । তবে টাইম ট্রাভেলের জন্য আপনার গতি অবশ্য আলোর গতির কাছাকাছি হতে হবে । এই পরিমান গতির কোন যন্ত্র এখনো আবিষ্কৃত হয়নি । তবে মন খারাপের কিছু নেই বিজ্ঞানিরা আমাদেরকে টাইম ট্রাভেল সম্পর্কে কিছু পদ্ধতি বলে দিয়েছেন। তো চলুন টাইম ট্রাভেলের উপায় গুলো সম্পর্কে জেনে নেই ।

টাইম ট্রাভেলের উপায় 

১.

আইনস্টাইনের বিশেষ  আপেক্ষিকতা থিউরি মতে অতিমাত্রার ভর বিশিষ্ট বস্তুর কারণে তার নিকটস্থ  স্থান কাল বক্র হয়ে যায় । যার ফলে তৈরি হয়ে যায় এ মহাবিশ্বের এক স্থানকাল থেকে আরেক স্থানকালে যাওয়ার মধ্যবর্তী একটি সংযোগ সেতু । যাকে বলা হয় ওয়ার্মহোল এর অপর নাম আইনস্টাইন-রোজেন সেতু । ওয়ার্মহোল অর্থ গরমগহ্বর হলেও এটি কিন্তু মোটেও গরম নয় ।

টাইম ট্রাভেল কি সম্ভব
ওয়ার্মহোল

ওয়ার্মহোল হলো মহাবিশ্বের এক স্থানকাল থেকে আরেক স্থানকালে যাওয়ার মধ্যবর্তী একটি সংযোগ সেতু । ওয়ার্মহোল সম্পর্কে বিখ্যাত বিজ্ঞানি স্টিফেন হকিং এবং কিফ থ্রোন ব্যাখ্যা দিয়েছেন । তো যদি ওয়ার্মহোল তৈরি হয় এবং খুঁজে পান তাহলে আপনিও সময় ভ্রমণ করেতে পারবেন ।

২. 

সময় ভ্রমণের যে পদ্ধতিটি সম্পর্কে এখন বলবো সেটি হলো ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণগহ্বর।

একটি নক্ষত্রের মৃত্যু থেকে জন্ম নেয় একটি ব্ল্যাকহোলের। বিজ্ঞানীদের মতে নক্ষত্রের জ্বালানী নিঃশেষ হয়ে গেলে এর কেন্দ্রীয় মূল বস্তু সংকোচিত হতে থাকে । এবং তৈরি হয় মহাকাশের দানব ব্ল্যাকহোলের ।

ব্ল্যাকহোলের মধ্যাকর্ষণ শক্তি এতই বেশি যে এর থেকে আলোক রশ্মিও বের হতে পাড়ে না । ব্ল্যাকহোল ছোট হতে পারে আবার বড় হতে পারে । বিজ্ঞানিদের মতে, ক্ষুদ্রতম ব্ল্যাকহোল একটি পরমানুর সমান হতে পারে । তবে তার ভর আমাদের সূর্যের সমতুল্য হতে পারে ।


টাইম ট্রাভেল কি সম্ভব !
মহাকাশের দানব ব্ল্যাকহোলের

মহাকাশযানের সাহায্যে ব্ল্যাকহোলের চারপাশে ঘুরতে ঘুরতে টাইম ট্রাভেল করা সম্ভব । কিন্তু  টাইম ট্রাভেল কেন ব্ল্যাকহোলের চারপাশে ঘুরার মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে? ব্ল্যাকহোলের ভিতরে প্রবেশ করা যাবে না কেন ? তার সোজাসাপ্টা উত্তর হলো ব্ল্যাকহোলে আপনি একবার ঢুকলে আর বের হতে পারবেন না । কারণ যেখান থেকে আলোক রশ্মি বের হতে পারে না সেখানে আপনি আমি তো নস্যি ! 

এবার চলুন দেখা যাক টাইম ট্রাভেল সম্পর্কে কোয়ান্টাম তত্ত্ব কি বলে? আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্বানু্যায়ী যে বিশেষ ক্ষেত্রসমূহ দ্বারা টাইম ট্রাভেল সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে, তা কোয়ান্টাম তত্ত্ব দ্বারা স্বীকৃত নয়। 

আরো পড়তে পারেন

তবে আশার আলো হচ্ছে যে, মহাকর্ষের সামগ্রিক কোয়ান্টাম তত্ত্ব আজো আমাদের জানা নেই, তাই সময় ভ্রমণের সম্ভাবনাহীনতার ব্যাখ্যা বা অনুমান, কোনটিই আপাতত সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত নয়। 

পদার্থবিদ রোনাল্ড ম্যাল ও মনে করেন একটি বলয় লেসারের সাহায্যে ঘূর্ণায়মান ব্ল্যাকহোলের অনুরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টির মাধ্যমে সময় ভ্রমণকে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। তবে অতীতে ভ্রমণ নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে এখনো বিরাট সন্দেহ রয়েছে । গাণিতিক ভাবে যা সম্ভব তা নিয়ে কি সন্দেহ থাকতে পারে ? এবং কেন ? তো চলুন এখন সে সম্পর্কে আলোচনা করি ।

টাইম ট্রাভেল কেন সম্ভব নয় ?

আগেই বলেছি ভবিষ্যতে ভ্রমণ সম্ভব হলেও অতীত ভ্রমণ নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে বিরাট সন্দেহ রয়েছে । তার অন্যতম কারণ হলো কিছু প্যারাডক্স (স্ব-বিরোধী কার্যক্রম ) । তার মধ্যে কয়েকটি হলো 

গ্রান্ডফাদার প্যারাডক্স :

অতীত ভ্রমণের ক্ষেত্রে গ্রান্ডফাদার প্যারাডক্স একটি অন্যতম সমস্যা । মনে করুন আপনি একটি টাইম ট্রাভেল মেশিন আবিষ্কার করে অতীতে গিয়ে আপনার দাদাকে হত্যা করলেন । তাহলে এখন আপনার বাবা আর জন্মাবে না । আপনার বাবা না জন্মালে আপনিও আর জন্মাবেন না । আর আপনি না জন্মালে টাইম ট্রাভেল মেশিন তৈরি হবে না । আর টাইম ট্রাভেল মেশিন তৈরি না হলে আপনিও অতীত ভ্রমণে যেতে পারবেন না । বুঝলেন তো গ্রান্ডফাদার প্যারাডক্স ।

বুটস্ট্রেপ প্যারাডক্স :

মনে করুন আপনি অতীত ভ্রমণ করে ৫ বছরের আইনস্টাইনকে স্পেশাল থিউরি অব রিলেটিভিটি ধরিয়ে দিলেন । তিনি আপনার দেয়া বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব হুবহু প্রকাশ করলেন । এখন প্রশ্ন হলো আপনার দেওয়া স্পেশাল থিউরি অব রিলেটিভিটি এটি কার ? এটি আবিষ্কার করলেন কে ? 

বুটস্ট্রেপ প্যারাডক্স  এমন প্যারাডক্স  যা নির্দেশ করে কোনো এক আবিষ্কারকে যা অতীতে নিয়ে গেলে ‘কে আবিষ্কার করেছে অথবা কোথা থেকে আসলো বা এর উৎপত্তি কোথায়’ ইত্যাদি প্রশ্নের মুখে পড়ে যায় । 

অতীত ভ্রমণের ক্ষেত্রে এছাড়াও আরো অসংখ্য প্যারাডক্স রয়ছে । তবে বিভিন্ন সময় বিজ্ঞানীরা এসকল প্যারাডক্সের সমাধাণ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তবে চলুন এখন সে সমাধান গুলো দেখে আসি ।

আরো পড়তে পারেন

নভিকভের আত্মরক্ষার থিওরি :

রাশিয়ান পদার্থবিদ ইগর ডিমিয়েত্রিভিচ নভিকভ এই থিওরি আবিষ্কর করেন । এই থিউরি অনুযায়ী কোন ব্যাক্তি অতীতে গেলে প্রকৃত বর্তমানকে প্রভাবিত করে এমন কোন কাজে অংশ গ্রহণ করতে পারবে না । মানে জগতের নিয়ম অনুযায়ী জগৎ এটা হতে দিবে না । মনে করুন অতীতে গিয়ে আপনি নিজেকে হত্যা করার চেষ্টা করলেন তাহলে সেটা পারবেন না ।  কারণ প্রকৃতি এটি হতে দিবে না । হয়ত অতীতে গিয়ে নিজেকেই খুঁজে পাবেন না ।

প্যারালাল ইউনিভার্স থিওরী : 

কোয়ান্টাম তত্ত্ব অনুযায়ী আমাদের মহাবিশ্বই একমাত্র মাহাবিশ্ব নয় ।  এরকম আরো অসংখ্য মহাবিশ্ব থাকতে পারে । ওই সকল মহাবিশ্ব আমাদের মহাবিশ্বের  অনুরূপ যাকে প্যারালাল ইউনিভার্স বলে । এবং ওই সকল মহাবিশ্বে পৃথিবীর অনুরূপ আরো পৃথিবী রয়েছে ।  সেখানকার প্রকৃতি, ভূমণ্ডল এমনকি প্রাণিজগৎও একেবারে আমাদেরই মতো। 

হুবহু আমাদেরই মতো দেখতে সবকিছু। একেবারে যেন আমাদের যমজ বিশ্ব। তো আপনি যখন সময় ভ্রমণে যাবেন তখন আপনি আসলে এরকমই কোন একটি প্যারালাল পৃথিবীতে যাবেন । সেটি আপনার পৃথিবী নয় । প্যরালাল!


টাইম ট্রাভেল কি সম্ভব


টাইম ট্রাভেল নিয়ে কিছু বিখ্যাত ঘটনা

এখন আমরা আলোচনা করবো পৃথিবী বিখ্যাত কিছু ঘটনা । যেগুলো অদ্ভুত এবং রহস্যমন্ডিত যেগুলো থেকে বুঝতে পারা যায় বাস্তবিক অর্থে টাইম ট্রাভেল সম্ভব । তো চলুন এখন সেগুলো সম্পর্কে জানা যাক।

আলেক্সান্ডার স্মিথের ২১১৮ সাল ভ্রমণ :

আলেক্সান্ডার স্মিথ নামক এক ব্যাক্তি একদিন হঠাৎ করে ইউটিউবে এসে দাবি করেন তিনি ১৯৮১ সাল থেকে টাইম ট্রাভেলের মাধ্যমে ২১১৮ সালে ভ্রমণ করেন। এর প্রমাণ হিসেবে তিনি একটি ছবি পেশ করেন । 

তিনি নিজেকে সিআইএ-এর এজেন্ড হিসেবে দাবি করে বলেন, টাইম ট্রাভেল করে আসার পর সিআইএ-এর গোয়েন্দারা তার কাছ থেকে আসল ছবিটি নিয়ে নেয় । ছবিতে দেখানো আঁকাবাঁকা সবুজ রঙ্গের কিছু বাড়িকে তিনি ভবিষ্যতের বাড়ি বলে দাবি করেন । যেগুলো বর্তমানের মতো নয় । খুবই উন্নত।

আরো পড়তে পারেন

মন ভালো করার কিছু অদ্ভুত ওয়েব সাইট

চ্যাপলিনের সিনেমায় টাইম ট্রাভেলার খুঁজে পাওয়া :

২০১০ সালের অক্টোবর মাসে আইরিশ চলচ্চিত্র নির্মাতা জর্জ ক্লার্ক ইউটিউবে একটি ভিডিও ক্লিপ পোস্ট করেন । ভিডিওটি ১৯২৮ সালে চার্লি চ্যাপলিনের "দ্য সার্কাস" চলচ্চিত্রটি লস এঞ্জেলসে প্রিমিয়ারের সময় ধারণ করা হয়েছিল । 

ওই ভিডিওতে দেখা যায় একজন পুরুষের পিছনে একজন মহিলা হেঁটে যাচ্ছে । ওই মহিলার দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় ওই মহিলা কানে মুঠো ফোন দিয়ে কথা বলছে । কিন্তু সেটা কিভাবে সম্ভব ! কারণ মুঠোফোন আবিষ্কার হয় ১৯৮৪ সালে ।

মঙ্গোলিয়ার মমির ঘটনা :

মঙ্গোলিয়ার আলতাই পাহাড়ের এক গুহা থেকে ১৫০০ বছরের পুরাতন একটি মমি উদ্ধার হয়। ওই মমিটির পায়ে উন্নতমানের একজোড়া জুতা ছিল । জুতা গুলোর অ্যাডিডাস ব্রান্ডের জুতার মতো তিনটি সাদা স্ট্রাইপ ছিল । এখন প্রশ্ন হলো ১৫০০ বছর পূর্বে তো মানুষ জুতা ব্যবহার শুরুই করেনি । তাহলে মমির পায়ে জুতাজোড়া এলো কোথা হতে ?

ফ্লাইট ইন ফিউচার : 

১৯৩৫ সালে এয়ার মার্শাল ভিক্টর গর্ডার বিমান নিয়ে হকার হার্টে একটি এক্সপেরিমেন্ট করছিলেন স্কটল্যান্ড থেকে দেশে ফেরার সময় তিনি নিয়মিত রুট পরিবর্তন করে অন্য একটি রুটে যাওয়ার সিদ্ধন্ত নেন । ভিক্টর গর্ডার-এর বিমান এডেনবার্গ শহরের কাছাকাছি একটি পরিত্যাক্ত এয়ারবেজের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ করেই বিমানের ইঞ্জিন কাজ বন্ধ করে দেয় । 

তারপর তিনি কোনমতে বিমানটিকে ওই পরিত্যাক্ত এয়ারবেজে ল্যান্ড করান । ল্যান্ড করার পর তিনি অত্যাধুনিক চারটি হলুদ  বিমানসহ  এয়ারবেজটিকে সম্পূর্ণ চালু অবস্থায় দেখতে পান । দীর্ঘ কয়েক বছর পর তিনি পুনরায় ওই এয়ারবেজে গিয়ে ছিলেন ।এবং তখনও সেখানে বিমানগুলো ছিল । 

কিন্তু অবাক করার ব্যাপার হলো ভিক্টর গর্ডার-এর প্রথমবার আসার অনেক পরে বিমানগুলো তৈরি করা হয়েছিল । তবে তিনি প্রথমবার যে বিমানগুলো দেখেছিলেন সেগুলো আসলো কোথা থেকে ? তবে কি তিনি টাইম ট্রাভেলের মাধ্যমে সেখানে আগে পৌঁছে গিয়েছিলন ?

হ্যামবার্গের ঘটনা :

১৯৩২ সালে জার্মান নিউজ  পেপার প্রতিবেদক বার্নার্ড হাটন এবং জোয়াকিম ব্রান্ডট নিজেদেরে ক্যামেরা নিয়ে হ্যামবার্গ শিপ ইয়ার্ডে যান । সেখানে গিয়ে তারা প্রচুর যুদ্ধ জাহাজ দেখেন । একটু পর তারা ভয়ংকর বিস্ফোরন দেখতে পান । 

দ্রুত তারা এই ঘটনার ছবি তোলেন । কিন্তু মজার ব্যাপার হলো ফিরে আসার পর তারা এরকম কোন ছবি খুঁজে পাননি ।তাদের খবর পত্রিকার পাতায় প্রকাশিত হওয়ার পর পত্রিকা গুলো তাদের মাতাল বলে আখ্যা দেয় । ঠিক একই খবর ১১ বছর পর ১৯৪৩ সালে অন্য  একটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয় । 

১১ বছর পর সত্যি ওখানে বিস্ফোরন ঘটে । যাতে প্রায় ৪০,০০০ মানুষ মৃত্যুবরণ করে । এখন প্রশ্ন হলো বার্নার্ড হাটন এবং জোয়াকিম ব্রান্ডট ১৯৪৩ সালের ঘটনা ১১ বছর পূর্বে ১৯৩২ সালে জানলেন কি করে ?

[বিঃদ্রঃ টাইম ট্রাভেল সম্পর্কিত সকল তথ্য উপাত্ত বিশ্বাসযোগ্য উৎস হতে সংগ্রহিকৃত তবে টাইম ট্রাভেল নিয়ে  বিখ্যাত ঘটনাগুলো বিশ্বাসযোগ্য উৎস হতে সংগ্রহকৃত নয় তাই এগুলোর সত্য মিথ্যা যাচাই করা সম্ভব হয়নি ।] 

আমাদের শেষ কথাঃ

প্রিয় পাঠক কোন মানুষই ভুলের উর্ধ্বে নয় ।তাই কোন ভুল হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন । ভুলগুলো সম্পর্কে জানাবেন । আপনার মতামত সম্মানের সাথে গ্রহণ করা হবে ।

আরো পড়তে পারেন

জুয়েল

দেওয়ার মতো কোনো পরিচয় নেই। অনার্স শেষ করে আপাতত বাংলাদেশ বেকার কোম্পানির ম্যানেজার হিসেবে মশা-মাছি তাড়াচ্ছি। তবে স্বপ্ন আছে অন্বেষা.নেট - কে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা বিষয়ক বাংলা ব্লগে পরিণত করা এবং শিক্ষার্থীদের মেধাকে বাজারের নিম্নমানের নোট গাইড থেকে রক্ষা করা।

1 মন্তব্যসমূহ

  1. অনেক সুন্দর গুছিয়ে লিখেছেন ভালো লেগেছে। ধন্যবাদ ।
    http://amvines.com/

    উত্তরমুছুন
নবীনতর পূর্বতন