ঘরোয়া রূপচর্চা বিষয়ক টিপস : রূপচর্চা করুণ ১০০% কার্যকর উপায়ে

রূপচর্চা বিষয়ক টিপস

আদি কাল থেকেই মানুষ রূপচর্চায় বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে থাকে । সবাই চায় নিজেকে সুন্দর করে উপস্থাপন করতে  । এই সুন্দর করে উপস্থাপন করার জন্য পৃথিবী জুড়ে তৈরি হয়েছে বিলিয়ন ডলারের প্রসাধনীর ব্যবসা । এ সকল প্রসাধনী আপনাকে যতটা না সুন্দর করছে তার চেয়েও বেশি ক্ষতি করছে আপনার ত্বকের ।

রূপচর্চা বিষয়ক টিপস
রূপচর্চা বিষয়ক টিপস

এছাড়াও আসাধু এক শ্রেণি ব্যবসায়ীর জন্য বাজার ছেয়ে গেছে নকল প্রসাধনীতে । এ কারণে নিজেকে সুন্দর এবং সুস্থ্য রাখার জন্য ঘরোয়া রূপচর্চা বিষয়ক টিপস (rupchorcha ghoroa tips) জানা অপরিহার্য  । তাই অন্বেষা.নেট এর আজকের আয়োজন কি কি উপাদান গুলোর সাহায্যে ঘরোয়া রূপচর্চা করা যায় । আশা করি আর্টিকেলটি আপনার উপকারে আসবে ।

ঘরোয়া রূপচর্চায় মধুর ব্যবহার

রূপচর্চা বিষয়ক টিপস
ঘরোয়া রূপচর্চায় মধুর ব্যবহার

আয়ুর্বেদদের মতে মধু এমন এক উপাদান যার গুনের শেষ নেই, সৌন্দর্যচর্চায় মধু অতুলনীয় আমরা যদি পুষ্টিমান এবং উপাদেয়তা বিবেচনা করি তাহলে প্রথম সারিতেই থাকবে মধুর নাম। মধুতে প্রায় ৪৫ টি খাদ্য উপাদান থাকে । এর মধ্যে ২৫-৩৭ শতাংশ গ্লুকোজ, ৩৪-৪৩ শতাংশ ফ্রক্টোজ, ০৫-০৩ শতাংশ সুক্রোজ, ৫-১২ শতাংশ মন্টোজ, ২২ শতাংশ অ্যামাইনো এসিড, ২৮ শতাংশ খনিজ লবন এবং ১১শতাংশ এনকাইম থাকে ।

তবে এর মধ্যে চর্বি ও প্রোটিন থাকে না । ১০০ গ্রাম মধুতে ২৮৮ ক্যালরি শক্তি থাকে । শুধু খাদ্য হিসেবেই নয় রূপচর্চায় ও মধুর রয়েছে ব্যাপক ব্যবহার । আয়ুর্বেদদের মতে মধু এমন এক উপাদান যার গুনের শেষ নেই, সৌন্দর্যচর্চায় মধু অতুলনীয় । এখন আমার রূপচর্চায় মধু কীভাবে ব্যাবহার করা যেতে পারে তা সম্পর্কে জানবো । তবে মনে রাখতে হবে যদি মধুতে আপনার এলার্জি থাকে তাহলে তা কখনোই ব্যবহার করবেন না । এবং অন্য কোনো উপকরণ ছাড়া সরাসরি মধু রূপচর্চার কাজে ব্যবহার করবেন না । এতে উপকারের পরিবর্তে ক্ষতিই হবে বেশি । 

ত্বক পরিষ্কারক হিসেবে মধুর ব্যবহার

সমপরিমান দুধ এবং মধু মিশিয়ে ক্লিনিং জেল ক্রিম তৈরি করুন । প্রতিদিন গোসল করার ২০ মিনিট আগে মুখে লাগিয়ে নিন । টানা ১ মাস ব্যবহার করুন একমাস পর নিজেই পরিবর্তন লক্ষ্য করুণ । দুধ এবং মধুর মিশ্রনে তৈরি ক্লিনিং জেল ক্রিম কাচের বয়ামে মুখ বন্ধ করে ফ্রিজে রেখে দিলে ১ সপ্তাহ পর্যন্ত ব্যবহার উপযোগী থাকে । 

ব্রণ দূর করতে মধুর ব্যবহার

সামান্য পরিমান মধু এবং সমপরিমান লবঙ্গ গুঁড়া মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে শুধু মাত্র ব্রণের স্থানে ব্যবহার করুণ  । আর সপ্তাহ খানেক পর ফলাফল দেখুন । মনে রাখবেন নঁখ বা অন্য কিছু দিয়ে কোন ক্রমেই ব্রন খোঁছানো যাবে না । 

ত্বক উজ্জ্বল করার জন্য মধুর ব্যবহার

আধা চা-চামচ মধু, আধা চা-চামচ টমেটোর রস এবং আধা চা-চামচ মসুর ডালের বেসন মিশিয়ে তৈরি করুন ফেইস প্যাক । ত্বকের দাগছোপ এবং মলিনতা দূর করতে সপ্তাহে দুই দিন ব্যবহার করতে পারেন দারুন কার্যকরী এ ফেস প্যাকটি । এছাড়াও আধা চামচ মধু এবং আধা চামচ শসার রস মিশিয়েও তৈরি করা যায় এ ধরনের প্যাক । ভালো ফলাফলের জন্য টানা ১ মাস ব্যবহার করুণ । আর নিজেই দেখুন নিজের পরিবর্তন । 

চুলের যত্নে মধুর ব্যবহার

১ চামচ মধু, একটি পাকা কলা, একটি ডিম দিয়ে তৈরি প্যাক সপ্তাহে ১ দিন ব্যবহার করুন চুলের যত্নে । যা আপনার চুলকে করবে সিল্কি এবং সাইনিং । তবে মনে রাখতে হবে এ ধরেনের প্যাক ব্যবহারের পর অবশ্যই মাথা ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে । তা না হলে এটি আপনার চুলের গোড়ায় তরল পদার্থ চলাচলের রন্ধ্র বন্ধ করে দিতে পারে । যাতে আপনার চুল প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা হারিয়ে শুষ্ক হয়ে যেতে পারে ।

আরো পড়তে পারেন

ঘরোয়া রূপচর্চায় লেবুর ব্যবহার

রূপচর্চা বিষয়ক টিপস
ঘরোয়া রূপচর্চায় লেবুর ব্যবহার

লেবুর সবচেয়ে ভালো উপকারীতা পেতে হলে নিয়মিত লেবু খান আগেই বলে রাখি রূপচর্চায় লেবুর ব্যবহার সকলের জন্য উপযোগী নয় । লেবুর রস সাইট্রিক এসিড । তাই না জেনে এটি ত্বকে সরাসরি প্রয়োগ করা উচিৎ নয় । এতে অনেক ক্ষেত্রে ত্বক লাল হয়ে যেতে পারে । ত্বকে বলিরেখাও পড়তে পারে । লেবুর রস মিশ্রিত প্যাক ব্যবহারে কারো কারো ত্বক জ্বালা পোড়া করতে পারে । তবে লেবুর সবচেয়ে ভালো উপকারিতা পেতে হলে নিয়মিত লেবু খান । যা আপনার কোষকে বয়স বৃদ্ধি জনিত ক্ষতি হতে রক্ষা করবে ।

মুখের তৈলাক্ত ভাব দূর করার জন্য মধুর ব্যবহার

শুধু মাত্র যাদের মুখ তৈলাক্ত তাদের জন্য এ প্যাকটি উপযোগী । ১ টেবিল চামচ লেবুর খোসা, ৩-৪ টি পুদিনা পাতা, ৬-৭ টি তুলসি পাতা, দুই তিন চামচ মুলতানি মাটি খুবই সামন্য পরিমান পানি দিয় বেলেন্ডারের সাহায্যে পেস্ট করে নিন । পুরোটা মুখে মেখে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন । সপ্তাহে দুই দিন ব্যবহার করুণ । এভাবে ব্যবহারের কিছু দিন পর দেখবেন মুখের তৈলাক্ত ভাব দূর হয়ে যাবে । 

স্বাভাবিক ও শুষ্ক ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির জন্য লেবুর ব্যবহার

স্বাভাবিক ও শুষ্ক ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির জন্য ১ চামচ লেবুর রস, সমপরিমান মধু, ১ টি ডিমের কুসুম, ৬-৭ ফোটা অলিভ অয়েল এবং দুই চামচ গমের ময়দা মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুণ । ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন । সপ্তাহে দুই দিন ব্যবহার করতে পারেন । মনে রাখতে হবে অতিসংবেদনশীল ত্বকে লেবুর রস ব্যবহার না করাই ভালো । এতে হিতে বিপরীত অবস্থা তৈরি হতে পারে । 

মুখের মেছতা ও অন্যান্য দাগ দূর করতে লেবুর ব্যবহার

মুখের মেছতা ও অন্যান্য দাগ দূর করতে স্ট্রিম (ভাপ) নেওয়ার পর এ প্যাকটি ব্যবহার করতে পারেন । যা  মুখের মেছতা ও অন্যান্য দাগ দূর করতে খুবই কার্যকরী । কয়েক ফোটা গ্লিসারিন ও লেবুর রস, ১ চামচ মুলতানি মাটি, আধা চামচ ট্যালকম পাউডার গোলাপ জলের সঙ্গে মিশিয়ে প্যাকটি তৈরি করুণ । প্যাকটি ত্বকে লাগিয়ে শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুল । শুকিয়ে গেলে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন । সপ্তাহে তিন- চার বার টানা মাস দুয়েক ব্যবহার করুণ । কিছুদিন পর দেখবেন  মুখের মেছতা ও অন্যান্য দাগ দূর হয়ে যাবে ।

শরীরের ত্বকের পরিষ্কারক হিসেবে লেবুর ব্যবহার

শরীরের বিভিন্ন জায়গার রংয়ের অসামাঞ্জস্য দূর করা এবং মৃত কোষ পরিষ্কার করে শরীরের ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির জন্য এ প্যাকটি খুবই কার্যকর । এ প্যাকটি তৈরি করার জন্য দুটি লেবুর খোসা, আধাকাপ লেবুর রস, ৬ টেবিল চামচ সুজি, ৬ টেবিল চামচ কাঁচা হলুদের রস , ২ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল এবং ৩ টেবিল চামচ লাল চিনি মিশিয়ে ভালো করে পেস্ট করে নিন । সপ্তাহে ১ দিন ১৫ মিনিট রেখে তোয়ালে দিয়ে ঘষে ঘষে তুলে ফেলুন ।  টানা ৫-৬ বার ব্যবহারে নিজের চোখেই ফলাফল দেখুন । সরাসরি লেবুর রসের সঙ্গে হলুদের রস ব্যবহারে ত্বকে জ্বালাপোড়া হতে পারে তাই হলুদের রস ব্যবহারের আগে দুই তিন মিনিট ফুটিয়ে নিন ।

খুশকি এবং চুলের রুক্ষতা দূর করতে লেবুর ব্যবহার

মাথার ত্বকে অ্যালো ভেরা জেলের সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন । তারপর মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন । এতে খুশকি কমার পাশাপাশি  চুলের গোড়া শক্ত হবে এবং চুল পড়া কমবে । এছাড়া চুল শ্যাম্পু করার পর চায়ের পানির সাথে লেবুর রস ব্যবহার করে দেখতে পারেন । যার ফলে চুলের রুক্ষ ভাব দূর হয়ে চুল হবে কোমল ও মসৃণ । 

কুনুই ও হাঁটুর কালচে ভাব দূর করতে লেবুর ব্যবহার

লেবুতে থাকা ভিটামিন এ এবং সাইট্রিক এসিড কুনুই ও হাঁটুর কালচে ভাব দূর করতে বেশ উপকারী । এক্ষেত্রে কুনুই এবং হাঁটুর কালচে ভাব দূর করতে এসব জায়গায় লেবুর রস এবং লবনের মিশ্রণ হালকা করে ঘষুণ । সপ্তাহে দুই-তিন দিন ব্যবহার করুণ । টানা কয়েক দিন ব্যবহারের পর দেখুন এসকল জায়গার কালচে ভাব দূর হয়ে গেছে । 

দাঁতের হলদে ভাব করতে লেবুর ব্যবহার

দাঁতের হলদে ভাব দূর করতে লেবুর চমৎকার ব্যবহার রয়েছে । এ ক্ষেত্রে লেবুর রসের সাথে বেকিং সোডা মিশিয়ে দাঁতের উপর পাতলা প্রলেপ দিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন । তারপর টুথ ব্রাশের সাহায্যে ব্রাশ করে নিন । কিছু দিন ব্যবহারের পর দেখুন দাঁতের হলদে ভাব দূর হয়ে গেছে । 

ঘরোয়া রূপচর্চায় মুলতানি মাটির ব্যবহার

ঘরোয়া রূপচর্চা
ঘরোয়া রূপচর্চায় মুলতানি মাটির ব্যবহার

ম্যাগনোসিয়াম সমৃদ্ধ এই মাটি রূপচর্চায় ব্যপক হারে ব্যবহৃত প্রাকৃতিক উপাদানগুলোর মধ্যে অন্যতম মুলতানি মাটি ইংরেজিতে Fuller's Earth নামে পরিচিত । পাকিস্তানের মুলতান শহরে সর্বপ্রথম এ মাটি পাওয়া যায় বলে এ মাটির নাম মুলতানি মাটি । মুলতানি মাটি আমাদের ত্বকের কতটা উপকারী তা নিয়ে ইতো পূর্বে বিভিন্ন জার্নালে, বিভিন্ন প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা তাদের মতামত ব্যক্ত করেছেন । ম্যাগনোসিয়াম সমৃদ্ধ এই মাটি রূপচর্চায় ব্যপক হারে ব্যবহৃত প্রাকৃতিক উপাদানগুলোর মধ্যে অন্যতম । চলুন এখন জেনে নেওয়া যাক রূপচর্চায় মুলতানি মাটির ব্যবহার । মনে রাখতে হবে লেবুর মতো মুলতানি মাটির কোন পার্শপতিক্রিয়া নেই । 

ব্রণ দূর করতে মুলতানি মাটির ব্যবহার

ব্রণ ও ব্রণের দাগ দূর করতে মুলতানি মাটি, টমেটোর রস, কাঁচা হলুদ বাটা, এবং চন্দনের গুঁড়ো মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুণ । এটি মুখে লাগিয়ে বিশ থেকে পঁচিশ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলুন । সপ্তাহে ২ -৩ দিন প্যাকটি ব্যবহার করুণ । টানা কয়েক দিন ব্যবহারের পর দেখুন ব্রণের দাগ দূর হয়ে আপনার মুখে উজ্জ্বলতা ফিরে এসেছে । 

সূর্যের পোড়া ভাব দূর করতে মুলতানি মাটির ব্যবহার

মুখে সূর্যের পোড়া ভাব দূর করতে মুলতানি মাটির রয়েছে চমৎকার ব্যবহার । এর জন্য বাদামের তেল বা ক্যাস্টর ওয়েল এর সাথে মুলতানি মাটি মিশিয়ে টানা কিছু দিন ব্যবহার করুণ । 

ত্বককে বার্ধক্যের ছাপ থেকে রক্ষা করতে মুলতানি মাটির ব্যবহার

এক চামচ মুলতানি মাটির সাথে এক চামচ টক দই এবং একটি ডিমের সাদা অংশ মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুণ ।  এবার এটি ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন । ভালো ফলাফলের জন্য নিয়মিত ব্যবহার করুণ । এই প্যাকটি ত্বক টানটান করতে সাহায্য করবে । 

হাত ও পায়ের কালো ভাব দূর করতে মুলতানি মাটির ব্যাবহার

এটি একটি কমন সমস্যা । আনেকেরই মুখের ত্বকের তুলনায় হাত ও পায়ের ত্বক কালচে থাকে । এই সমস্যা দূর করতে মুলতানি মাটি, বেসন এবং কাঁচা হলুদ বাটা মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুণ । প্যাকটি হাত ও পায়ে মেখে শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুণ । শুকানোর পর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন । ভালো ফলাফলের জন্য নিয়মিত ব্যবহার করুণ । 

প্রাকৃতিক ভাবে চুল সোজা (Straight) করতে মুলতানি মাটির ব্যবহার

প্রাকৃতিক ভাবে চুল Straight করতে এক কাপ মুলতানি মাটির সঙ্গে এক কাপ চালের গুঁড়ো এবং একটি ডিমের সাদা অংশ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে চুলের গোড়ায় ব্যবহার করুণ । লাগানোর পর মোটা চিরুনি দিয়ে চুল ভালো ভাবে আচড়াতে থাকুন । শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুণ । শুকানোর পর ভালো ভাবে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন । তবে মনে রাখতে হবে এ ধরেনের প্যাক ব্যবহারের পর অবশ্যই মাথা ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে । তা না হলে এটি আপনার চুলের গোড়ায় তরল পদার্থ চলাচলের রন্ধ্র বন্ধ করে দিতে পারে । যাতে আপনার চুল প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা হারিয়ে শুষ্ক হয়ে যেতে পারে । 

ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর করতে মুলতানি মাটির ব্যবহার

আমাদের অনেকরই মুখে তৈলাক্ত ভাবের সমস্যা রয়েছে । এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকরী উপায় হলো মুলতানি মাটির ব্যবহার । এর জন্য ২টেবিল চামচ মুলতানি মাটির সঙ্গে প্রয়োজনীয় গোলাপ জল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে মুখে ব্যবহার করুণ। শুকিয়ে যাওয়ার পর ধুয়ে ফেলুন । 

সপ্তাহে আনন্ত তিন বার টানা কিছু দিন ব্যবহার করুন । আর ফলাফল দেখুন নিজের চোখে । এছাড়াও মুখের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনার জন্য মুলতানি মাটির সঙ্গে ২ টেবিল চামচ টমোটোর রস এক টেবিল চামচ চন্দনের গুড়ো মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুণ । এটি নিয়মিত ব্যবহারে আপনার মুখের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে ।

ঘরোয়া রূপচর্চায় চন্দনের ব্যবহার

ঘরোয়া রূপচর্চা
রূপচর্চায় চন্দনের ব্যবহার

যারা শুষ্ক ত্বকের সমস্যায় ভোগেন তাদের জন্য চন্দন হতে পারে সবচেয়ে সেরা সমাধান । চন্দনের ইংরেজী নাম Sandalwood । এটি দেখতে কিছুটা হলুদ । এটি একটি সুগন্ধ যুক্ত কাঠ । এটির সুগন্ধ দীর্ঘ দিন ধরে বজায় থাকে । পৃথিবীর দামী কাঠগুলোর মধ্যে এটি একটি । সাধরণত দুই ধরনের চন্দন গাছ রয়েছে । 

একটি হলো লাল চন্দন এবং অন্যটি হলো শ্বেত চন্দন । রূপচর্চায় লাল চন্দনের ব্যবহার বেশি হয়ে থাকে । অন্যদিকে সাবান এবং বিভিন্ন ধরনের কসমেটিকের সুগন্ধি হিসেবে শ্বেত চন্দনের ব্যবহার হয়ে থাকে । লাল চন্দনের তুলানায় শ্বেত চন্দনের দাম বেশি । চন্দন মূল্যবান গাছ হওয়ায় বাজারে এটির অনেক নকল রয়েছে । তাই আসল চন্দন যাচাই করে কিনতে হবে। চলুন এখন রূপচর্চায় চন্দনের ব্যবহার সম্পর্কে জেনে আসি ।

ত্বকের শুষ্কতার সমস্যা সমাধানে চন্দনের ব্যবহার

যারা শুষ্ক ত্বকের সমস্যায় ভোগেন তাদের জন্য চন্দন হতে পারে সবচেয়ে সেরা সমাধান । শুষ্ক ত্বকের জন্য বাড়তি ময়েশ্চারাইজারের দরকার হয় । ত্বকের শুষ্কতার সমস্যা সমাধানের জন্য মধু ও দুধ মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুণ । মুখে, হাতে, পায়ে নিয়মিত ব্যবহারে ফলে ত্বকের শুষ্কতার  সমস্যা দূর হয়ে যাবে  । এছাড়াও ত্বকের শুষ্কতা থেকে রক্ষা পেতে ১ চামচ চন্দন গুড়া, ১/৪ চামচ নারকেল তেল, ১/৪ চামচ আমন্ড অয়েল মিশিয়ে শুষ্ক ত্বকে ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায় । 

সংবেদনশীল ত্বকের যত্নে চন্দনের ব্যবহার

যাদের ত্বক অতিসংবেদনশীল রূপচর্চায় তাদের  সতর্ক থাকতে হয় । তবে এক্ষেত্রে চন্দন হতে পারে আপনার জন্য বিশেষ কার্যকর একটি প্রাকৃতিক উপাদান । সংবেদনশীল ত্বকের জন্য চন্দনের সাথে টক দই মিশিয়ে ব্যবহার করা যায় । মুখে শুধু চন্দন ব্যবহার করার পর গোলাপ জল, গ্লিসারিন ও সমপরিমান অলিভ অয়েল মিশিয়ে ব্যবহার করুন । এতে ভালো ফলাফল পাওয়া যায় ।  

ত্বকের বলিরেখা দূর করতে চন্দনের ব্যবহার

চন্দনের গুড়া, গোলাপ জল, গ্লিসারিন মিশিয়ে ফেইস প্যাক তৈরি করুণ । সপ্তাহে অনন্ত চারদিন টানা মাসখানেক ব্যবহার করুণ । দেখবেন দ্রুত ত্বকের বলিরেখা দূর হয়ে গেছে ।  এছাড়াও ব্রণ ও প্রদাহ জনিত সমস্যা সমাধানে চন্দন খুবই কার্যকরী একটি উপাদান ।

রূপচর্চায় ঘৃতকুমারী ( Aloe vera ) - এর ব্যবহার।

ঘরোয়া রূপচর্চা
রূপচর্চায় ঘৃতকুমারী ( Aloe vera ) - এর ব্যবহার । 
এ রসালো উদ্ভিদের পাতায় রয়েছে ২০ রকমের খনিজ পদার্থ যা মানব দেহের জন্য খুবই উপকারি । আজ থেকে ৬০০০ বছর পূর্বে মিশরে অ্যালোভেরা উৎপত্তি লাভ করে । খ্রিস্ট পূর্ব যুগ থেকেই ভেষজ চিকিৎসা শাস্ত্রে অ্যালোভেরার ব্যবহার উল্লেখ করা হয়েছ  । অ্যালোভেরার যে কত প্রকার ব্যবহার রয়েছে তা আপনি চাইলে উইকিপিডিয়া থেকে দেখে আসতে পারেন । এ রসালো উদ্ভিদের পাতায় রয়েছে ২০ রকমের খনিজ পদার্থ যা মানব দেহের জন্য খুবই উপকারি । 

ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর করতে অ্যালোভেরার ব্যবহার

অ্যালোভেরার পাতা পানিতে ফুটিয়ে সেই পানির সাথে মধু মিশিয়ে মুখে ও গলায় ব্যবহার করুণ । শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন । কিছু দিন টানা ব্যবহারে অবশ্যই ভালো ফলাফল পাবেন । এছাড়াও চার টেবিল চামচ অ্যালোভেরার সাথে দুই টেবিল চামচ ওটামিল বা ওটস মিশিয়ে তৈরি করুণ ফেইস প্যাক । যা ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর করতে বিশেষ কার্যকর । 

চুলের যত্নে অ্যালোভেরার ব্যবহার

চুলের শুষ্ক ভাব এবং মাথার চুলকানি দূর করতে অ্যালোভেরার ব্যবহার খুবই কার্যকর । অ্যালোভেরায় থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান চুলের এবংমাথার ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বিশেষ কার্যকর ।

আশা করি বিস্তারিত ভাবে ঘরোয়া রূপচর্চা বিষয়ক টিপস জেনে আপনি উপকৃত হয়েছেন । ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে তাদেরকেও জনার সুযোগ করে দেওয়ার অনুরোধ রইল । ভালো থাকবেন । সুস্থ ও সুন্দর থাকবেন ।

আরো পড়তে পারেন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন