৩টি প্রশ্নের উত্তর, যা জানার ইচ্ছা আপনারও আছে !


দৈনিন্দিন জীবনে আমাদের মনে অনেক প্রশ্ন জন্ম নেয় । যার কিছুর উত্তর আমরা জানি আবার কিছুর উত্তর আমরা জানি না । এরকমই তিনটি প্রশ্ন নিয়ে অন্বেষা.নেট এর আজকের আয়োজন যার উত্তর জানার ইচ্ছা আপনারও আছে । আর্টিকেলটিতে যে সকল প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হয়েছে সেগুলো হলো:


ক্যান্সার থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়

১. ক্যান্সার থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় সত্যি কি আছে ?

বিজ্ঞানের উন্নতির সাথে সাথে চিকিৎসা শাস্ত্রের ও ব্যপক উন্নতি হয়েছে । তবে অনেক বিজ্ঞানী এখনো একটি বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করে আর তা হলো সত্যি কি সকল প্রকারের ক্যান্সারের সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কার করা সম্ভব ? 

অস্ত্রপাচার, রেডিও থেরাপি, কেমোথেরাপি, হরমোন থেরাপি ও বিভিন্ন রকম সহায়ক চিকিৎসা পদ্ধতি ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হলেও এ গুলোর কোনটাই ক্যান্সারের জন্য ১০০% কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি নয় । 

গবেষকরা বলেছেন পৃথিবীতে প্রায় ২০০ ধরণের ক্যান্সার রয়েছে । এই সকল ক্যান্সার কেন হয় এর সঠিক উত্তর এখনো বিজ্ঞানের কাছে নেই ।তবে জেনেটিক কারণ, ধূমপান,মদ্যপান, রেডিয়েশন, টিউমার, কিডনি বা পিত্তথলির পাথর, ক্রনিক ইনফেকশন, ক্যামিকেল এজেন্ট ইত্যাদিকে গবেষকরা ক্যান্সরের অন্যতম কারণ বলে দাবি করেন । 

প্রাণি দেহ অসংখ্য কোষ দ্বারা তৈরি । কোষ বিভাজনের মাধ্যমে প্রাণি দেহের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ বৃদ্ধি পায় এবং নতুন কোষের জন্ম হয় । সাধারণ ভাবে নিয়ন্ত্রিত উপায়ে কোষের বিভাজন ঘটে । যখন কোন কারণে কোষগুলো অনিয়ন্ত্রিত ভাবে বিভাজিত হতে থাকে তখনই ঐ স্থানে মাংসের চাকার মতো চাকা দেখা দেয় ।  একে টিউমার বলে । 

এই টিউমার যখন আশে পাশের কলা বা টিস্যুকে ভেদ করার ক্ষমতা অর্জন করে তখন তাকে বলে ক্যান্সার ।খাদ্য অভ্যাসের পরিবর্তন করা, নিয়মিত ব্যায়াম করা এ সচেতনতার মাধ্যমে কিছুটা হলেও ক্যান্সার প্রতিরোধ করা যায় ।

আরো পড়তে পারেন

ফেব্রুয়ারি মাস ২৮ দিনে কেন ?

২. ফেব্রুয়ারি মাস ২৮ দিনে কেন ?

সে প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ৪৬ অব্দের কথা । তখন রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার রোম সিংহাসনে । এ সময় জুলিয়াস সিজার পঞ্জিকা সংস্কার করেন । তিনি রোমান ৫ম মাস কুইন্টাইলিসকে নিজের নাম অনুসারে নাম দিলেন জুলিয়াস । যাকে আমরে বলি জুলাই (July) মাস । তিনি নিজের নামানুসারে রাখা মাসটির জন্য বরাদ্দ করলেন ৩১ দিন । 

ওই সময়ে তার আদেশ অনুযায়ী তৎকালীন একাদশ মাস জানুয়ারি থেকে বছর গণনা শুরু হয় । যার করণে সেপ্টেম্বর বা ৭ম, অক্টোবর বা ৮ম, নভেম্বর বা ৯ম, ডিসেম্বর বা ১০ মাস তাদের নাম বদল না করে বর্তমান পঞ্জিকায় ক্রম বদল হয়ে যায় । অর্থ্যাৎ আগের সেপ্টেম্বর বা ৭ম মাস বর্তমান ক্রমে হয়ে যায় ৯ম মাস । এভাবে ক্রমানুযায়ী অক্টোবর, নভেম্বর, ডিসেম্বর তাদের নাম বদল না করেও অবস্থান বদল করে ফেলে । 

পরবর্তী সম্রাট অগাস্টাস সীজারও ছাড়বার পাত্র ছিলেন না । তার নির্দেশ অনুযায়ী বছরের ৬ষ্ঠ মাস সেক্সটিলিস (Sextilis) এর নতুন নাম করণ করা হলো অগাস্ট (August) । তিনিও তার নামানুসারে রাখা মাসটির জন্য বরাদ্দ করলেন ৩১ দিন । এখন বছরের ৩৬৫ দিন ঠিক রাখতে গিয়ে বেচারা ফেব্রুয়ারি মাসকে সব আব্দার সহ্য করে ছোট হতে হয়েছে । অবশ্য সান্ত্বনা হিসেবে লিফ ইয়ার ( লস্ফ বছর ) - এর বাড়তি ১ টি এ মাসেই বরাদ্দ রাখা হয়েছে ।

আরো পড়তে পারেন

 ফোটনের কি বুদ্ধি আছে?

মানুষ ছাড়া অন্য প্রাণীর বুদ্ধি নিয়েই যেখানে সংশয় আছে বিজ্ঞানীদের মধ্যে, সেখানে ফোটনের মতো এক জড় শক্তির বুদ্ধি আছে কি না, প্রশ্ন তোলাটা বোকামি মনে হতে পারে। কিন্তু ফোটনের অদ্ভুত সব কর্মকাণ্ডই এ প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়। যেমন সাধারণ কাচ বেশ স্বচ্ছ। বেশির ভাগ দৃশ্যমান আলোই এর ভেতর দিয়ে চলে যেতে পারে। বেশির ভাগ, পুরোটা নয় কিন্তু। কিছু আলো স্বচ্ছ কাচ থেকেও প্রতিফলিত হয়। সবচেয়ে স্বচ্ছ কাচেও ৪ শতাংশ আলো প্রতিফলন করতে পারে। আলোর প্রতিফলন-প্রতিসরণ নির্ভর করে আলোর কণা ফোটনের ওপর। তার মানে আলোর কণাধর্মই নির্ধারণ করে আলো কাচ বা অন্য বস্তুর ওপর পড়লে সেটা ওই বস্তুর ভেতর দিয়ে বেরিয়ে যাবে নাকি প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসবে। নিউটন আলোর কণাধর্মের ধারণা দিয়েছিলেন। 

তিনি আসলে আপাদমস্তক কণাবাদী। বস্তুকে যেমন অসংখ্য খুদে কণিকার সমাবেশ মনে করতেন, তেমনি আলোকরশ্মিকেও তিনি মনে করতেন অসংখ্য ভরহীন কণার সমাবেশ। ঊনবিংশ শতাব্দীতে আলোর কণাতত্ত্ব ধামাচাপা পড়ে যায়। কিন্তু বিংশ শতাব্দীর শুরুতেই সেই কণাতত্ত্ব ভিন্নভাবে ফিরিয়ে আনেন আলবার্ট আইনস্টাইন। কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা হয় আলোর কণাতত্ত্বের ওপর দাঁড়িয়েই।

নিউটনই স্বচ্ছ কাচে আলোর কণাদের প্রতিফলনের বিষয়টা লক্ষ করেন। তিনি নিশ্চিত হন আলোর পরিমাণ যত কমই হোক আর যত বেশিই হোক, প্রতিফলিত আলোর হার সমান। তখনই সমস্যাটা তাঁর মাথায় আসে। যেসব আলোর কণা প্রতিফলিত হয়, তারা কীভাবে বোঝে স্বচ্ছ কাচে প্রতিফলিত হয়ে তাদের ফিরে আসতে হবে? তাহলে আলোর কণাদের কি বুদ্ধি আছে? তারা কি জানে কারা স্বচ্ছ কাচ ভেদ করে যাবে আর কারা প্রতিফলিত হবে?

নিউটনের সময় আলোর ফোটনদের আলাদা করে শনাক্ত করা সম্ভব ছিল না। তাই অনেক প্রশ্নের জবাব খুঁজে পাওয়া তাঁর জন্য অসম্ভব ছিল। কিন্তু এই কোয়ান্টাম বলবিদ্যার যুগে আলোর ফোটনদের আলাদা করে শনাক্ত করার জন্য শক্তিশালী ডিটেকটর আছে। সেসব ডিটেকটর দিয়ে পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে, স্বচ্ছ কাচের প্রতিফলনের রহস্য ভেদ করার চেষ্টা করা হয়েছে। বিখ্যাত মার্কিন পদার্থবিদ রিচার্ড ফাইনম্যানের বিখ্যাত বই কিউইডির প্রথম অধ্যায়েই আলোচনা করা হয়েছে এই সমস্যা নিয়ে। বিস্তারিত ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সমস্যাটা যে তিমিরে রয়ে গেছে সেই তিমিরেই। ফাইনম্যানও পারেননি স্বচ্ছ কাচে আলোর কণাদের এই প্রতিফলন রহস্যের সমাধান দিতে। তিনি দেখিয়েছেন, আলোর কাচের পুরুত্ব বাড়লে প্রতিফলনক্ষমতা বাড়তে পারে। কিন্তু কখনোই শতভাগ ফোটন ভেদ করে যেতে পারে এমন কাচ কখনোই পাওয়া যাবে না। সেই সঙ্গে তিনি আরেকটা বিষয়ও দেখিয়েছেন, আলোর কাচের পুরুত্ব বাড়ালে কাচের প্রতিফলনক্ষমতা যতই বাড়ুক, কখনোই সেটা ১৬ শতাংশের বেশি হবে না। অর্থাৎ কাচের আলো প্রতিফলনক্ষমতা সর্বনিম্ন ৪ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৬ শতাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

এখন একটা প্রশ্ন আসতে পারে, বাজারে অনেক কাচ আছে যেগুলো খুব কালো, তার ভেতর দিয়ে খুব কম আলো বেরিয়ে যেতে পারে। যেমন ভিআইপিদের গাড়ির জানালায় এ ধরনের কাচ রাখা হয়। ধরা যাক, একটা কালো কাচের প্রতিফলনক্ষমতা ৫০ শতাংশ। অর্থাৎ সেই কাচে যে পরিমাণ ফোটন এসে পড়ে তার অর্ধেকই সে ফিরিয়ে দিতে পারে। কাচের বেশি বেশি আলো প্রতিফলনক্ষমতা এমনি বাড়েনি। তার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে কৃত্রিম পদ্ধতি। মানুষ কৃত্রিম উপায়ে কাচ তৈরির সময় কেমিক্যাল মিশিয়ে বাড়িয়েছে। কিন্তু এই কাচেও তো পুরোনো সমস্যাটা রয়ে গেছে। সেই কাচ কোন ৫০ শতাংশ আলো ফিরিয়ে দিচ্ছে, কেন ফিরিয়ে দিচ্ছে, সেটার সমাধান কিন্তু মেলেনি।

তাহলে কি ধরে নেব ফোটনদের বুদ্ধি আছে? ৪ শতাংশ ফোটন জানে তাদের প্রতিফলিত হতে হবে? না, ফোটনের বুদ্ধি থাকার প্রশ্নই ওঠে না। সমস্যাটার গভীরে এখনো বিজ্ঞানীরা যেতে পারেননি। সমস্যাটা অতি প্রাচীন। সেই নিউটনের যুগের। সাড়ে তিন শ বছরেও এর সমাধান মেলেনি। আদৌ এর সমাধান মিলবে কি না, বলা যায় না। তবে কোয়ান্টাম বলবিদ্যায় তো কত ভুতুড়ে কাণ্ড ঘটে। সেগুলোর কিছু কিছুর সমাধান তো আছেই। এই সমস্যাটার সমাধানও কি কোয়ান্টাম বলবিদ্যা দেবে? এর উত্তর পেতে আমাদের ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।

আশা করি ভালো লেগেছে । ভালো থাকবেন । অন্বেষা.নেট এর সাথে থাকবেন ।

আরো পড়তে পারেন

ত্রিকোণমিতি কি ? ত্রিকোণমিতির জন্ম কথা

বিট কয়েন কী ? কীভাবে তৈরি হয় বিট কয়েন

চেনা পৃথিবীর অচেনা রূপ

কম্পিউটারে কিভাবে এন্ড্রয়েড অ্যাপ ইন্সটল করবেন জানুন  বিস্তারিত 

জুয়েল

দেওয়ার মতো কোনো পরিচয় নেই। অনার্স শেষ করে আপাতত বাংলাদেশ বেকার কোম্পানির ম্যানেজার হিসেবে মশা-মাছি তাড়াচ্ছি। তবে স্বপ্ন আছে অন্বেষা.নেট - কে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা বিষয়ক বাংলা ব্লগে পরিণত করা এবং শিক্ষার্থীদের মেধাকে বাজারের নিম্নমানের নোট গাইড থেকে রক্ষা করা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন