বিটকয়েন কি ? কীভাবে তৈরি হয় বিটকয়েন

আজকে আলোচনার বিষয় বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত সমালোচিত বিটকয়েন ।


বিটকয়েন (Bitcoin) কী ?

ভার্চুয়াল মুদ্রা ব্যবস্থাকে বলা হয় কিপ্টোকারেন্সি বা ডিজেটাল মুদ্রা । যা তৈরি হয় জটিল গানিতিক এ্যালগরিদম সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে কিপ্টোগ্রাফি প্রক্রিয়ায় । বর্তমানে পৃথিবীতে প্রায় ১০০০ এর বেশী কিপ্টোকারেন্সি চালু রয়েছে । এই সকল কিপ্টোকারেন্সির মতোই বিটকয়েনও একটি কিপ্টোকারেন্সি ।

বিটকয়েন কোন মুদ্রা নয় । এটি আসলে কম্পিটারে তৈরি জটিল একটি এ্যালগরিদম। যা শুধু মাত্র অনলাইনে আদান প্রদান করা যায় । বিটকয়েনের সাংকেতিক প্রতিক হলো BTC । বিটকয়েনের ক্ষুদ্রতম একক হলো সাতোশি । ১ বিটকয়েন সমান ১০কোটি সাতোশি । বিটকয়েন কোন ক্যাশবাক্সে রাখা যায় না । এর কোন নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান নেই ।

বিটকয়েন এখনো কোন বৈধ বা আনুষ্ঠানিক মুদ্রা ব্যবস্থা হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি । কেবল নিরাপত্তা এবং সহজে অনলাইনে বিনিময়যোগ্য হওয়ায় এটি বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় এবং বিস্তৃত। আপনি যখন বিটকয়েনের মালিক হবেন তখন আপনার নিকট বিটকয়েনের একটি কোড থাকবে । ঐ কোডের ভিতরেই বিটকয়েনের সবকিছু লুকান থাকে । অর্থ্যাৎ কেউ যদি ওই কোড পেয়ে যায় তাহলে সেই হয়ে যাবে বিটকয়েনের মালিক ।

বিটকয়েন আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত মুদ্রা ব্যবস্থা না হলেও বিশ্বের প্রায় সকল নামিদামি কোম্পানি যেমন: Microsoft, Wikipedia, Amazon, PayPal, Visa, Starbucks ইত্যাদির সেবা বা পন্য বিটকয়েনের মাধ্যমে কেনা যায় । SpaceX এর মালিক ইলন মাস্ককে বিটকয়েনের সবচেয়ে বড় পৃষ্ঠপোষক মনে করা হয় ।

আরো জানতে পারেন

বিট কয়েনের ইতিহাস

আশির দশকের শেষভাগে কম্পিউটারের সাংকেতিক-রীতি (কিপ্টোগ্রাফি) বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন যে কিপ্টোগ্রাফির মাধ্যমে ডিজেটাল মুদ্রা বা কিপ্টোকারেন্সি তৈরি করা সম্ভব । তবে একটি সমস্যার তারা কোন ভাবেই সমাধান করতে পারছিলেন না । সমস্যাটির নাম ডাবল পেন্ডিং বা বহু ক্রয় সমস্যা । 

মনে করুন আপনার কম্পিউটারে একটি ফটো আছে এখন আপনি ওই ফটোটি অন্য একটি ফোল্ডারে কপি করে নিলেন । এখন কোন ভাবেই বুঝা যাবে না কোন ফটোটি আসল আর কোনটি নকল । এখন একইভাবে কম্পিউটার মুদ্রাকে কপি করে একাধিক বার খরচ করা সম্ভব । উক্ত সমস্যাটিকে বলা হয় ডাবল পেন্ডিং বা বহু ক্রয় সমস্যা । কিপ্টোকারেন্সির সম্ভাবনা থাকলেও পৃথিবীর তাবৎ কম্পিউটার বিজ্ঞানীদের নিকট উক্ত সমস্যাটির সমাধান ছিলনা ।

২০০৮ সালের নভেম্বর মাসে metzdowd.com নামক প্রায় অখ্যাত একটি অনলাইন ফোরামে একটি প্রবন্ধ পাঠালেন এক রহস্যময় মানুষ । নিজেকে তিনি জাপানের নাগরিক বলে দাবি করলেন, বয়স জানালেন ৩৫ । তার পুরো নাম সাতোশি নাকামোতা । সাতোশি নাকামোতা Bitcoin: A Peer-to-Peer-Electronic Cash System নামক ৯ পৃষ্ঠার একটি গবেষনা পত্রে ডাবল পেন্ডিং সমস্যাটির সহজ অথচ সুরক্ষিত একটি চমৎকার সমাধান প্রধান করেন ।

ওই বছরের ১৮ই আগস্ট bitcoin.org ডোমেন নামটি নিবন্ধন করা হয় । ২০০৯ সালে সাতোশি সোর্সফর্য নামক একটি প্লাটফর্মে বিটকয়েনের সোর্সকোড উন্মোক্ত করে দেন । এ মাসে বিটকয়েন নেটওয়ার্ক সম্প্রচার করা হয় এবং সাতোশি ব্লকচেইনের সর্বপ্রথম ব্লক মাইন করেন । প্রথম বছরের মধ্যে সাতোশি প্রায় ১০ লক্ষ বিটকয়েন মাইন করেন । 

হ্যাকারদের উৎপাত সহ বিভিন্ন কারনে ২০১০ সালে সাতোশি নাকামোতা বিটকয়েন নেটওয়ার্ক কিউ এবং বিটকয়েন কোর এর কোড গ্যাভিন অ্যান্ড্রেসেন নামক এক সফটওয়্যার ডেভেলপারের কাছে হস্তান্তর করেন । এরপর হতে সাতোশি নাকামোতার আর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি । তিনি একেবারে হাওয়া হয়ে যান । অনলাইন জগতে সাতোশি নাকামোতার এভাবে হরিয়ে যাওয়া সবচেয় বড় রহস্যের একটি । 

অনেকে মনে করেন সাতোশি নাকামোতা কোন একজন ব্যাক্তি নন । বরং একটি দল । সর্ব প্রথম বিটকয়েনের লেনদেন ঘটেছিল সাতোশি এবং হান ফিনির মধ্যে । ওই লেনদেনে সাতোশি হান ফিনিকে ১০ বিটকয়েন প্রদান করেন । সাতোশি একটি সুরক্ষিত ব্লকচেইন পদ্ধতিতে বিটকয়েন মাইনিং (উত্তোলন) করার প্রচলন করেন । 

এ পদ্ধতিতে ২১৪১ সাল সাল পর্যন্ত ২১ মিলিয়ন বিটকয়েন মাইনিং করা যাবে । তার বেশি নয়। কারণ প্রতি ৪ বছর পরপর বিটকয়েনের উত্তোলন সংখ্যা (মাইনিং) অর্ধেকে নেমে আসে । বিটকয়েন মাইনিংয়ের পদ্ধতি এভাবেই ডিজাইন করা ।

কীভাবে তৈরি হয় বিটকয়েন

বিটকয়েন কীভাবে তৈরি হয় তা ভালো ভাবে বুঝার জন্য আমাদেরকে ২টি বিষয় সম্পর্কে ভালো করে ধারণা নিতে হবে । ১. হ্যাশ ফাংশন ২. ব্লকচেইন

হ্যাশ ফাংশন

হ্যাশ ফাংশন হলো কম্পিউটারের একটি গাণিতিক ফাংশন যাতে কোন ডেটা ইনপুট করলে প্রতিবার একটি আউটপুট বেরুবে । এই আউপুটে আর কোন তথ্য ইনপুট করা অসম্ভব । যাতে প্রতিবার একই আউটপুটের বিপরীতে একই  ইনপুট বেরুবে ।

মনে করুন আপনি হ্যাশ ফাংশনে "অন্বেষা.নেট‍‍" নামক ডেটা ইনপুট করলেন তাহলে তার আউটপুট দেখতে অনেকটা "000001beeca7385d1589764lacdn" এরকম হবে । পৃথিবীর যেকোন কম্পিউটারেই "অন্বেষা.নেট‍‍" এর জন্য উক্ত আউপুটই পাওয়া যাবে । এখন আপনি উক্ত আউটপুট থেকে  এক বা একাধিক সংখ্যা বা অক্ষর পরিবর্তন করলে আপনার দেয়া ইনপুটের সম্পূর্ণই পরিবর্তন হয়ে যাবে ।

ব্লকচেইন

ব্লকচেইন হলো একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে (বিটকয়েনের ক্ষেত্রে সেটি ১০ মিনিট ) যত আর্থিক লেনদেন হয় সেগুলোর এনক্রিপ্টেড তথ্য এক সঙ্গে করে এক একটি ব্লক বানিয়ে তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা ।

প্রত্যেকটি ব্লকে থাকা ডেটা ওপেন তবে এনক্রিপ্টেড অর্থ্যাৎ ডেটা গুলো সবাই দেখতে পারবে তবে পড়তে হলে প্রাইভেট কি লাগবে । ব্লকচেইনের প্রত্যেকটি ব্লক অপরিবর্তনীয় । একবার ব্লকচেইনে একটি ব্লক যোগ হলে সেটি পরিবর্তন অসম্ভব । একটি ব্লক তার পূর্ববর্তী ব্লকের সাথে কানেক্টেড । প্রতিটি ব্লকচেইনের কার্বন কপি বিশ্বের হাজার হাজার কম্পিউটারে বিদ্যমান । 

যার কারণে হাজার বা কোটি খানেক কম্পিউটার নষ্ট হয়ে গেলেও ব্লকচেইনের কিছু হবে না। এক একটি ব্লক তৈরি হয় কিছু গোপন সংখ্যা, আর্থিক লেনদেনের তথ্য, এর পূর্ববর্তী ব্লকের তথ্য এবং কম্পিউটারের নিজ থেকে প্রদান করা কিছু হ্যাশ সহ আরো কতিপয় ডেটা এনক্রিপ্টেড করার (জোড়া লাগানো) মাধ্যমে।

হ্যাশ ফাংশন এবং ব্লকচেইন সম্পর্কে জেনে থাকলে তো এখন চলুন বিটকয়েন কীভাবে তৈরি হয় সে সম্পর্কে আলোচনা করা যাক

আরো পড়তে পারেন

বিটকয়েন মাইনিংয়ের প্রক্রিয়া

পূর্বে বিটকয়েন তৈরির প্রক্রিয়া (কথাটিকে তৈরি না বলে মাইনিং বলাই ভালো) কিছুটা সহজ থাকলেও সময় অতিক্রান্ত হওয়ার সাথে সাথে তা জটিল থেকে জটিলতর হয়ে যাচ্ছে । আগে সাধারণ কম্পিউটারের মাধ্যমে বিটকয়েন মাইনিং করা গেলেও এখন বিটকয়েন মাইনিং করার জন্য বিশেষ শক্তিশালী কম্পিউটারের প্রয়োজন হয় । বিটকয়েনের দুনিয়ায় যাকে বলে মাইনার যন্ত্র ।

বিটকয়েন মাইনিং যন্ত্র

খনি (মাইন) থেকে খনি শ্রমিকরা (মাইনার) যেভাবে সোনা,রূপার মতো মূল্যবান ধাতু আহরণ (মাইন) করে একইভাবে বিটকয়েন মাইনাররা ব্লকচেইনের জন্য ব্লক তৈরিতে অংশ গ্রহণ করে বিটকয়েন মাইন করে । 

বিটকয়েন মাইনাররা ব্লকচেইনের জন্য ব্লক তৈরিতে অংশ গ্রহণ করে বিটকয়েন মাইন করে কোন ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠান চাইলেই নিজের ইচ্ছেমতো বিটকয়েন তৈরি করে মার্কেটে ছাড়তে পারবে না। বিটকয়েন মাইন করার জন্য যে কাউকে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় ব্লকচেইনের জন্য ব্লক তৈরিতে অংশগ্রহণ করতে হবে ।

আপনি Games খেলে নির্দিষ্ট লেভেল পার হলে যেরকম রিওয়ার্ড পান একই ভাবে বিটকয়েন মাইনাররা ব্লকচেইনের জন্য ব্লক তৈরিতে অংশগ্রহণ করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মাধ্যমে পুরুষ্কার হিসেবে বিটকয়েন পেয়ে থাকে । যার মাইনিং যন্ত্র যত শক্তিশালী তার সফলতার হার তত বেশী । 

বিটকয়েন আদানপ্রদানের সময় বিটকয়েনটি আসল কিনা তা ভ্যারিফাই করেত হয় । ভ্যারিফাইয়ের জন্য বিটকয়েন আদান প্রদানের সময় বিটকয়েন ব্লকচেইনে গিয়ে যোগ হয় । একটি প্রাইভেট লগের মাধ্যমে মাইনাররা বিটকয়েনের বৈধতা যাচই করেন । বৈধতা যাচাই করার সময় ব্লক চেইনের শেষে একটি হ্যাশের দরকার পড়ে যার কারণে মাইনাররা তাদের শক্তিশালী কম্পিউটারের মাধ্যমে হ্যাশ তৈরি করে  ব্লক চেইনের শেষে যুক্ত করেন। 

এভাবে সারা পৃথিবীর সর্বশেষ ১০ মিনিটে যত বিটকয়েন লেনদেন হয় তার ডেটা, ব্লকচেইনের আগের হ্যাশের ডেটা, কম্পিউটারের নিজ থেকে দেওয়া কিছু ডেটা এবং আরো কতিপয় ডেটা ব্যবহার করে ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এন.এস.আই) এর ডিজাইন করা SHA-256 হ্যাশ ফাংশানের মাধ্যমে ডেটা এনক্রিপ্ট (Encrypt) করে নতুন ব্লক তৈরি হয় ।

বিটকয়েন মাইনিং

প্রতি ১০ মিনিটে যে মাইনার সবার আগে ব্লক তৈরিতে সফল হন তিনি পুরুষ্কার সরূপ লাভ করেন কিছু বিটকয়েন । এভাবেই তৈরি হয় নতুন বিটকয়েন । বিশ্বের সকল মাইনার প্রতি সেকেন্ডে ৩০ মিলিয়ন বার চেষ্টা করে প্রতি ১০ মিনিটে ১টি করে ব্লক তৈরিতে সফল হন।

অগেই বলছি প্রতি ৪ বছর পরপর বিটকয়েনের উত্তোলন সংখ্যা (মাইনিং) অর্ধেকে নেমে আসে । এখন মাইনাররা ১২.৫ টি করে বিটকয়েন লাভ করলেও কিছুদিন পরে তার সংখ্যা অর্ধেকে নেমে আসবে ।

বিটকয়েন বিনিময়ের পদ্ধতি

বিটকয়েনের বিনিময় হয় পিয়ার টু পিয়ার অর্থ্যাৎ গ্রাহক টু গ্রাহক কম্পিউটারে । আমি আগেই বলেছি  বিটকয়েনের কোন নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান নেই । বিটকয়েন বিনিময়ের সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় একটি ওপেন সোর্স সফটওয়্যার এর মাধ্যমে । বিটকয়েন গ্রাহকের একটি ডিজেটাল ওয়ালেটে সংরক্ষিত থাকে সংরক্ষিত বিটকয়েন গ্রাহক যখন কাউকে প্রেরণ করে তখন তার সমপরিমান বিটকয়েন গ্রাহকের ওয়ালেট থেকে কমিয়ে দেওয়া হয় এবং সমপরিমান বিটকয়েন প্রাপকের ওয়ালেটে জমা হয় । 

আমি আগেই বলেছি বিটকয়েন আদানপ্রদানের সময় বিটকয়েনটি আসল কিনা তা ভ্যারিফাই করেত হয় । ভ্যারিফাইয়ের জন্য বিটকয়েন আদান প্রদানের সময় বিটকয়েনটি ব্লকচেইনে গিয়ে যোগ হয় । একটি প্রাইভেট লগের মাধ্যমে মাইনাররা বিটকয়েনের বৈধতা যাচই করেন । 

এই কারনে চাইলেই কোন গ্রাহক একটি বিটকয়েনকে কপি করে একাধিকবার ব্যবহার করতে পারেন না । কার কাছে কত বিটকয়েন আছে পাবলিক লগের মাধ্যমে তা সবাই দেখতে পারেলেও ঐ বিটকয়েনের মালিক আসলে কে তা বের করা যায় না  ।

আরো পড়তে পারেন

বিটকয়েন কতটা সুরক্ষিত

বিটকয়েন আপনার পকেটে রাখা  টাকার চাইতেও বেশি সুরক্ষিত । মনে করুণ ২,৪,৮,১০,১২ এখানে প্রত্যেকটি এক একটি ব্লক । এখন একজন সুদক্ষ হ্যাকার এখানের ৩নং ব্লক ৮ এ প্রবেশ করে কিছু ডেটা ইনপুট করলেন যার কারণে ৮ সংখ্যাটি হয়ে গেল ৯ তাহলে লক্ষ্য করুণ ৩নং ব্লকটি তার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী ব্লকের সাথে সমঞ্জস্যতা (২,৪,৯,১০,১২ ) হারিয়েছে। 

যার ফলে এটি কার্যকারিতা হারাবে  আমরা আগেই জেনেছি ব্লকচেইনের একটি নতুন ব্লক তৈরি করতে পূর্ববর্তী ব্লকের তথ্য প্রয়োজন । আগের ব্লকের তথ্য ছাড়া পরের ব্লক তৈরি করা সম্ভব না । প্রতিটি ব্লক তার পূর্ববর্তী ব্লকের সাথে কানেক্টেড । এই কারণে হ্যাকারের তৈরি ব্লকটি তার পরবর্তী ব্লকগুলোর সাথে না মেলার কারণে সেগুলোও (১০,১২ ) কার্যকারীতা হারাবে ।

এখন প্রশ্ন জাগতে পারে তাহলে উক্ত বিটকয়েন কি বাতিল বলে গন্য হবে? সেটার উত্তর হচ্ছে "না"। কারণ প্রতিটি বিটকয়েনের তথ্য সকল গ্রাহকের কম্পিউটার+প্রাইভেট লগে থাকে । যার কারণে আগের ব্লকটিই থাকবে ।

শুধু তাই নয় যদি একজন হ্যাকার কোনভাবে কাঙ্খিত ব্লকটি সঠিক ভাবে মাইনিং করে নিতে পারেন তাহলেও এটি কমপক্ষে ৫২% মাইনার দ্বারা ভ্যারিফাই করে নিতে হবে । একজন মাইনার তার কাছে থাকা ডেটা মিলিয়ে দেখে একটি ব্লক বা বিটকয়েন আদান-প্রদান ভ্যারিফাই করে । 

তাই দুই নম্বরি করে তৈরি করা ব্লকটির ডেটা  লগবুকে না থাকলে কখনোই একজন মাইনার তা ভ্যারিফাই করতে পারবে না । ৫২% তো অসম্ভব । যেখানে প্রতি ১০ মিনিটে একটি করে নতুন ব্লক তৈরি হয় সেখানে শুধু শুধু এত পন্ডশ্রম করে কি লাভ ।

বিটকয়েনের মূল্য কত

আমি আগেই বলেছি  বিটকয়েনের কোন নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান নেই । তাই এর দাম নির্ধারিত নয় । এটির মূল্য এটি নিজেই । বিটকয়েনের সূচনার বছরগুলোতে এর কোন দামই ছিলনা । পরে ১ ডলার দিয়ে ১২৫০ টি বিটকয়েন পাওয়া যেত ।

এই আর্টিকেলটি লেখার সময় প্রতিটি বিট কয়েনের দাম ৬১৫৫৯.৫ ডলার ছিল । প্রতি ডলার বাংলাদেশী কমপক্ষে ৮২ টাকা ধরে এবার হিসাব করুণ ১ বিটকয়েন সমান বাংলাদেশী কত টাকা (!) বিটকয়েনের লাইভ বাজারমূল্য দেখতে এখানে ক্লিক করুন । বিটকয়েনের মূল্য স্থিতিশীল নয় । শেয়ার বাজারের মতো কখনো কখনো এর দরপতন ঘটে । তাহলেও সেটা খুব বেশি নয় ।

বিটকয়েনের সুবিধা অসুবিধা 

সুবিধা:

১. বিটকয়েন এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে উন্মুক্ত আর্থিক ব্যবস্থা । বিশ্বের যে কোন জায়গায় ২৪ ঘন্টা ৭ দিন বিটকয়েন পেমেন্ট করা যায় । বিটকয়েনের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার তুলনায় সস্তা ও দ্রুত । ( যদিও বিটকয়েন মাইনারদের দ্বারা লেনদেন ভ্যারিফাই করতে এখন কিছুটা সময় ব্য়য় হয়।) 

২. বিটকয়েনে কালোটাকা ইনভেস্ট করা যায় । 

৩. তৃতীয় পক্ষের নজরদারীর বাইরে গিয়ে অর্থ লেনদেন করার সবচেয়ে সুরক্ষিত ও নিরাপদ মাধ্যম হলো বিটকয়েন ।

৪. আপনি যদি দীর্ঘ সময়ের জন্য বিটকয়েনে টাকা ইনভেস্ট করেন তাহলে আপনি যেকোন ইনভেস্টমেন্টের চাইতে বেশি প্রফিট লাভ করতে পারেন ।

অসুবিধা:

১. ইসলাম ধর্মে বিটকয়েনের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন সম্পূর্ণ হারাম ।

২. বাংলাদেশে বিটকয়েনের লেনদেন সম্পূর্ণ অবৈধ ।

৩. যেহেতু এর কোন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠান নেই তাই এতে ইনভেস্ট করা ঝুঁকিপূর্ণ ।

৪. কোন কারণে বিটকয়েন একাউন্ট হ্যাক হলে আপনার সম্পূর্ণ বিটকয়েন হারাবেন ।

কিভাবে বিটকয়েন ব্যবহার করা যায়

বিটকয়েন ব্যবহার করতে হলে আপনাকে অনলাইনে বা মোবাইলে এপ ইন্সটল করে একটি ডিজেটাল ওয়ালেট তৈরি করতে হবে । বিটকয়েন ওয়ালেট তৈরি করতে এখানে যান। সাইন আপ করার পর এখান থেকে আপনি একটি ইউনিক বিটকয়েন ওয়ালেট এড্রেস পাবেন ।

এখন কেউ আপনাকে বিটকয়েন পাঠালে সে আপনার বিটকয়েন ওয়ালেট এড্রেসে বিটকয়েন প্রেরণ করবে । যা আপনার একাউন্টে এসে যোগ হবে । একই ভাবে আপনি কাউকে বিটকয়েন প্রেরণ করতে চাইলে তার বিটকয়েন ওয়ালেট এড্রেসে বিটকয়েন প্রেরণ করবেন ।

কিভাবে বিটকয়েন উপার্জন করা যায়

সাধারণত ৩টি প্রক্রিয়ায় বিটকয়েন উপার্জন করা যায়:

১. কারো কাছ থেকে বিটকয়েন ক্রয় করে । বর্তমানে মিনিমাম ৯৯৯ ডলারের বিনিময়ে বিটকয়েন ক্রয় করা যায় । ৯৯৯ ডলারের কমে বর্তমানে বিটকয়েন ক্রয় করা যায় না।

২. অনলাইনে কোন পন্য বা সেবা বিক্রি করে যার বিনিময় মাধ্যম হবে বিটকয়েন ।

৩. বিটকয়েন মাইনিংয়ে অংশগ্রহণ করে ।

বিটকয়েনের প্রতিদ্বন্ধি কারা

বর্তমানে পৃথিবীতে ১০০০ এর বেশি কিপ্টোকারেন্সি রয়েছে । তবে এখনো কোনটি বিটকয়েনের সমান মর্যাদা লাভ করতে পরেনি। তবে এদের মধ্যে ইথিরিয়াম, লাইটকয়েন, ডজকয়েন উল্লেখযোগ্য । বাজারে এখন যত কিপ্টোকারেন্সি আছে ভবিষ্যতে হয়তো তার থেকেন ২০ টি টিকবে । তবে এতটুকু বলা যায় কিপ্টোকারেন্সিই হবে আগামীর প্রধান মুদ্রা ব্যাবস্থা ।

আমাদের শেষ কথা

মানুষ ভুলভ্রান্তির উর্ধ্বে নয় । তাই সকল ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি । ভুলগুলো সম্পর্কে জানাবেন । আপনার মতামত সম্মানের সাথে গ্রহণ করা হবে । বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কিপ্টোকারেন্সিতে লেনদেন সম্পূর্ণ অবৈধ । এর ফলে কিপ্টোকারেন্সিতে লেনদেন করে আইনি ঝামেলায় পড়তে পারেন । তাই কিপ্টোকারেন্সিতে লেনদেন না করাই ভালো । আমার আর্টিকেলটি শুধুমাত্র জানানোর উদ্দেশ্যে রচিত । তাই এটির ব্যবহারিক প্রয়োগ না করাই ভালো। 

আশা করি আর্টিকেলটির মাধ্যমে বিটকয়েন সমন্ধে আপনার সকল উত্তর পেয়ে গেছেন । ভালো লাগলে বন্ধুদের মধ্যে শেয়ার করে তাদেরকেও জানার সুযোগ করে দিবেন ।

আরো পড়তে পারেন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন